বিজ্ঞপ্তি:
আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম
আক্রান্ত

১,৯৫৩,০৪৯

সুস্থ

১,৮৯৯,৬৩৯

মৃত্যু

২৯,১২৭

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২,৭১৪
  • বরগুনা ১,০০৮
  • বগুড়া ৯,২৪০
  • চুয়াডাঙ্গা ১,৬১৯
  • ঢাকা ১৫০,৬২৯
  • দিনাজপুর ৪,২৯৫
  • ফেনী ২,১৮০
  • গাইবান্ধা ১,৪০৩
  • গাজীপুর ৬,৬৯৪
  • হবিগঞ্জ ১,৯৩৪
  • যশোর ৪,৫৪২
  • ঝালকাঠি ৮০৪
  • ঝিনাইদহ ২,২৪৫
  • জয়পুরহাট ১,২৫০
  • কুষ্টিয়া ৩,৭০৭
  • লক্ষ্মীপুর ২,২৮৩
  • মাদারিপুর ১,৫৯৯
  • মাগুরা ১,০৩২
  • মানিকগঞ্জ ১,৭১৩
  • মেহেরপুর ৭৩৯
  • মুন্সিগঞ্জ ৪,২৫১
  • নওগাঁ ১,৪৯৯
  • নারায়ণগঞ্জ ৮,২৯০
  • নরসিংদী ২,৭০১
  • নাটোর ১,১৬২
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮১১
  • নীলফামারী ১,২৮০
  • পঞ্চগড় ৭৫৩
  • রাজবাড়ী ৩,৩৫২
  • রাঙামাটি ১,০৯৮
  • রংপুর ৩,৮০৩
  • শরিয়তপুর ১,৮৫৪
  • শেরপুর ৫৪২
  • সিরাজগঞ্জ ২,৪৮৯
  • সিলেট ৮,৮৩৭
  • বান্দরবান ৮৭১
  • কুমিল্লা ৮,৮০৩
  • নেত্রকোণা ৮১৭
  • ঠাকুরগাঁও ১,৪৪২
  • বাগেরহাট ১,০৩২
  • কিশোরগঞ্জ ৩,৩৪১
  • বরিশাল ৪,৫৭১
  • চট্টগ্রাম ২৮,১১২
  • ভোলা ৯২৬
  • চাঁদপুর ২,৬০০
  • কক্সবাজার ৫,৬০৮
  • ফরিদপুর ৭,৯৮১
  • গোপালগঞ্জ ২,৯২৯
  • জামালপুর ১,৭৫৩
  • খাগড়াছড়ি ৭৭৩
  • খুলনা ৭,০২৭
  • নড়াইল ১,৫১১
  • কুড়িগ্রাম ৯৮৭
  • মৌলভীবাজার ১,৮৫৪
  • লালমনিরহাট ৯৪২
  • ময়মনসিংহ ৪,২৭৮
  • নোয়াখালী ৫,৪৫৫
  • পাবনা ১,৫৪৪
  • টাঙ্গাইল ৩,৬০১
  • পটুয়াখালী ১,৬৬০
  • পিরোজপুর ১,১৪৪
  • সাতক্ষীরা ১,১৪৭
  • সুনামগঞ্জ ২,৪৯৫
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট
নিজ সন্তান’ থেকে যিনি আজ হাজারো অটিজমের দূত

নিজ সন্তান’ থেকে যিনি আজ হাজারো অটিজমের দূত

 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ-

বাসনা মুহুরী। পেশায় শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

চট্টগ্রামের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একজন ডা. বাসনা মুহুরী। তার ৩৩ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, যিনি কিনা অটিজমে আক্রান্ত। ছেলেটির নাম অর্ণব। জন্মগতভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন অর্ণব সব কাজ ঠিকভাবে করতে না পারলেও মায়ের জন্য নিজের হাতেই তৈরি করেছেন মালা। যে মালা গলায় দিয়ে নিয়মিত কর্মস্থলে যান মা বাসনা মুহুরী।

শুরু থেকে গাইনিতে মন দিলেও পরে শিশুস্বাস্থ্যে বাসনা মুহুরীর পদার্পনের একমাত্র কারণ ছেলে অর্ণব। শুধু তাই নয়, শুরু থেকেই অটিজমে আক্রান্তদের কোনোরকম ফি ছাড়াই চিকিৎসা দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞ এ চিকিৎসক। এমনকি চেম্বারে অটিজমে আক্রান্তদের জন্য লাগে না কোনো সিরিয়ালও। নিজেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন অটিজম শিশুদের সুরক্ষা এবং সচেতনতা বিষয়ক সংগঠনের সঙ্গে। ‘নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের সভাপতি তিনি।

‘এমন বিশ্ব গড়ি যেন অটিজমদের প্রতিভা বিকশিত হয়’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শনিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।

এ দিবসের প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী বলেন, ‘অটিজম’ শব্দটি এখন বহুল পরিচিত একটি শব্দ। সিডিসি-আমেরিকার পরিসংখ্যান মতে- বর্তমানে প্রতি ৪৪ জনে একজন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। ছেলেদের মধ্যে প্রতি ২৭ জনে একজন এবং মেয়েদের মধ্যে প্রতি ১১৬ জনে একজন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঠিক পরিসংখ্যান জানা না থাকলেও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এর হার শূন্য দশমিক আট শতাংশ থেকে তিন শতাংশ। আমাদের দেশে প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে কমপক্ষে ১৭ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতি ১০ হাজার ছেলে শিশুর মধ্যে ২৪ জন এবং প্রতি ১০ হাজার মেয়ে শিশুর মধ্যে প্রায় ১০ জন অটিজমে আক্রান্ত।

নিজের সন্তানের প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ এ চিকিৎসক বলেন, সালটা ১৯৯০। আমার ছেলে অর্ণবের বয়স তখন ৮-৯ মাস হবে। অর্ণব (অন্তু) নাম বলে ডাকলে তেমন কোনো সাড়া দিত না। হঠাৎ হয়তো বা একটু তাকাতো। তখনতো অটিজম শব্দের সাথে পরিচিত হইনি। কিন্তু এটা বুঝতে পেরেছিলাম অন্তু তার সমবয়সী শিশুদের মতো রেসপন্স করে না। একা থাকতে পছন্দ করে। বাচ্চা বড় হচ্ছে। কিন্তু চোখে চোখ রেখে কথা বলে না। আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে হাঁটে। বিছানায় উল্টো হয়ে গড়াগড়ি দেয়। তখন বুঝতে পারিনি আমার বাচ্চার কী সমস্যা। শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। ১৯৯২ সালের শেষের দিকে তখন অর্ণবের বয়স তিন-এর কাছাকাছি। পেডিয়াট্রিকসের অধ্যাপক ডা. এখলাছুর রহমানকে দেখাই। তিনি আড়াই ঘন্টা আমার বাচ্চাকে পর্যবেক্ষণ করেন। শেষে জানান আমার বাচ্চা অটিজমে আক্রান্ত। পরামর্শ দেন আমাদেরকেই তার গাইড হতে। জানান, এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই।

তিনি বলেন, আমি চিকিৎসা পেশায় গাইনিতে প্রাকটিস শুরু করেছিলাম। আমার ছেলের মধ্যে অটিজম শনাক্ত হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে শিশুস্বাস্থ্য প্রাকটিস শুরু করি। সেই ১৯৯৭ সাল থেকে ব্যক্তিগত চেম্বারে অটিজম শিশুদের চিকিৎসার ফি নেওয়া হতোনা। তাদের কোনো সিরিয়ালও লাগত না। কিন্তু ফ্রি চিকিৎসা হওয়াতে গুরুত্ব না দিয়ে বিভিন্ন রকমের চিকিৎসা করানো হতো অটিজম শিশুদের। পরে কয়েক বছর অপচিকিৎসা করার পরে আবার আমার কাছে আসতো। তাই ২০২০ সাল থেকে অর্ধেক ফি নিয়ে থাকি। সেটা আলাদাভাবে চেম্বারে রাখা হয়, পরে নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশনে দিয়ে দেওয়া হয়। অটিজম শিশুদের জন্য চেম্বারে কোনো ধরনের সিরিয়াল এখনো লাগে না।

ডা. বাসনা মুহুরী বলেন, অটিজমে আক্রান্ত বাচ্চারা একা থাকতে পছন্দ করে, অন্যের চোখে চোখ রেখে তাকায় না। অন্যের অনুভূতি বুঝতে পারে না। মৌখিক বা অমৌখিক যোগাযোগ করতে পারে না বা দেরিতে কথা বলে বা কথা বলা শুরু করেও কেউ কেউ তা হারিয়ে ফেলে। একই কথা বা শব্দ বার বার বলতে থাকে, একই নিয়মে চলতে পছন্দ করে। চারপাশের কোনো পরিবর্তন পছন্দ করে না বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। একই আচরণ বারবার করতে থাকে যেমন— অস্বাভাবিক হাত নাড়ানো, অকারণে একইভাবে দুলতে বা ঘুরতে থাকে। বিশেষ কোনো শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ, স্বাদ, আলো বা রং এর প্রতি অতিমাত্রায় বা কম মাত্রায় সংবেদনশীলতা দেখায়।

তিনি বলেন, অটিজমের জন্য কোন কারণ দায়ী- এটি এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে এটি জানা গেছে- এর পেছনে অনেকগুলো কারণ যুক্ত থাকতে পারে। যার মধ্যে জেনেটিক বা বংশগত, পরিবেশগত প্রভাব অন্যতম। তাছাড়া গর্ভকালীন এবং প্রসবকালীন নানা জটিলতা, নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্মগ্রহণ, জন্মের সময় কম ওজন ইত্যাদিও প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি আরো বলেন, অনেকে এখনো এ অটিজমকে বুঝতে পারে না। কিন্তু আমাদের কাজ ও প্রচেষ্টা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমরা অটিজমে আক্রান্ত বাচ্চাদের অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা ও সাহস জোগাতে পেরেছি।

 

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন




১৯৬১ সালের স্বেচ্ছামূলক সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান অধ্যাদেশ নম্বর ৪৬ এর ৪ (৩) ধারার অধীনে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রুরাল ইনহ্যন্সমেন্ট অর্গানাইজেশন( রিও) নিবন্ধন নং -সসেঅদ/ পটুয়া/ ৬৬৩ এর উন্নয়ন প্রকাশনা
কারিগরি সহায়তা: Next Tech